ফজর নামাজের ফজিলত

ফজর নামাজের ফজিলত — প্রিয় নবী "সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম" নামাজকে ঈমানের পরে স্থান দিয়েছেন। মুমিন ও মুসলিম হিসেবে একটি মানুষের প্রথম ও প্রধান কাজ সঠিক ও শুদ্ধভাবে নামাজ আদায় করা। কারণ ঈমানের পরে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো নামাজ। আর এই নামাজ হলো ইসলামের পাঁচটি স্তম্ভের অন্যতম দ্বিতীয় স্তম্ভ। প্রত্যেক মুসলিমের পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করা ফরজ। রাব্বুল আলামিন নামাজের গুরুত্ব ও ফায়দা সম্পর্কে সাহাবায়ে কেরামের সামনে অসংখ্য হাদিস বর্ণনা করেছেন। 

ফজর নামাজের ফজিলত

তার মধ্যে একটি হলো "হযরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত-তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কে জিজ্ঞাসা করলাম, "হে আল্লাহর রাসূল!" আল্লাহর কাছে সবচেয়ে বেশী প্রিয় আমল কোনটি? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন "নামাজ" (বুখারী ও মুসলিম)। পবিত্র কোরআনুল কারীমে মহান আল্লাহ তায়ালা বিভিন্ন জায়গায় ৮২ বার সালাত শব্দের উল্লেখ করে নামাজের গুরুত্ব তুলে ধরেছেন। 

নামাজের গুরুত্ব প্রতিটি মুসলিমের জীবনে অপরিসীম। নামাজ হলো একমাত্র পথ যা বান্দা আর আল্লাহ তালার মধ্যে যোগাযোগের রাস্তা তৈরি করে। পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের মধ্যে ফজরের নামাজ অধিক গুরুত্বপূর্ণ। যার ফজিলত ও উপকারিতা জানলে, আমি বা আপনি যে কেউই আশ্চর্য হবো। প্রিয় দর্শক আমাদের আজকের কনটেন্টটি ফজর নামাজের উপকারিতা ও ফজর নামাজের ফজিলত নিয়ে। তো চলুন শুরু করি।

পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের মধ্যে ফজর নামাজের উপকারিতা ও ফজর নামাজের ফজিলত অন্যতম। ইনশাআল্লাহ, হয়তো এগুলো জানার পর আমার বা আপনার মত আর কোনো মুসলিমেরই ফজর সালাতের প্রতি গাফিলতি, অলসতা, ঘুমের ঘোর আসবে না। সেগুলো হলো:

ফজর নামাজের ফজিলত

ফজরের নামাজে দাঁড়ানো সারারাত দাঁড়িয়ে নামাজ পড়ার সমান। যে ব্যক্তি জামাতের সাথে এশার নামাজ আদায় করল, সে যেন অর্ধেক রাত জেগে নামাজ পড়ল। আর অন্যদিকে যে ব্যক্তি ফজরের নামাজ জামাতের সাথে পড়লো, সে যেন পুরো রাত জেগে নামাজ পড়ল।

ফজরের সালাত মুমিন ও মুনাফিকের মধ্যে পার্থক্যকারী। যে ব্যাক্তি ফজরের নামাজ আদায় করবে সে হলো আল্লাহর মুমিন বান্দা। কেননা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, মুনাফিকের জন্য ফজর সালাত আদায় কষ্টকর। যে ব্যক্তি ফজরের নামাজ পড়বে সে আল্লাহর জিম্মায় থাকবে। (মুসলিম)

যে ব্যক্তি ফজরের সালাত আদায় করবে আল্লাহর ফেরেশতা আল্লাহর কাছে ওই ব্যক্তিকে ভালো মানুষ হিসেবে সাক্ষী দেবে। যে ব্যাক্তি ভরে হেঁটে হেঁটে ফজরের সালাত আদায়ের জন্য মসজিদ পদার্পণ করবে। আল্লাহ তা'আলা কেয়ামতের দিন তার জন্য পরিপূর্ণ আলো দান করবেন। ফজরের সালাত আদায় কারী ব্যাক্তির মন ফুরফুরে ও প্রফুল্ল হয়ে যাবে। কখনো খারাপ লাগা তার মনে জায়গা করতে পারবেনা।

ফজরের দুই রাকাত সুন্নত সালাত, দুনিয়া ও তার মাঝে যা কিছু আছে তার চেয়ে উত্তম। ফজরের সালাত আদায়কারী ব্যাক্তি, রাসূল সাল্লাল্লাহু এর বরকতের দোয়া লাভ করবেন। রিজিকে বরকত আসবে। আল্লামা ইবনুল কাইয়ুম। বলেছেন, সকাল বেলার ঘুম ঘোরে রিজিক আসতে বাধা দেয়। কেননা তখন রিজিক বন্টন করা হয়। তাই ফজরের সালাত আদায়কারী ব্যক্তির রিজিকের অভাব হবে না। আর যে ব্যাক্তি নিয়মিত ফজরের সালাত আদায় করবে সে কখনোই জাহান্নামে প্রবেশ করবে না। সরাসরি মহান আল্লাহ তায়ালা তাকে জান্নাত দান করবেন। ফজরের নামাজ দিয়ে দিনটা শুরু করলে পুরো দিনের কার্যক্রমের একটা বরকতম সূচনা হবে।

তো দর্শক, এই ছিল আমাদের আজকের আলোচিত বিষয়। দুনিয়ার সকল কাজ কর্ম ফেলে আসুন নিয়মিত নামাজ আদায় করি মহান রাব্বুল আলামিন আমাদের ফজরের সালাত আদায়ের মাধ্যমে উপরের সবগুলো ফজিলত লাভের তৌফিক দান করুন। আমিন।

আরো পড়ুনঃ এটিএম কার্ডের পাসওয়ার্ড ভুলে গেলে করণীয়

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

নবীনতর পূর্বতন